April 25, 2026, 6:15 am

নাজমুল ইসলাম,দৌলতপুর/
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতার ওপর সশস্ত্র হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় যুবদলের এক নেতাকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।
মামলায় মরিচা ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. হেলাল হোসেনকে প্রধান আসামি করে আরও দুজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা ১০–১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে।
গত ২০ এপ্রিল দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের মাজদিয়ার গ্রামে ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রবিউল ইসলাম (৩৬)-এর ওপর দুর্বৃত্তরা ব্রাশফায়ার ও শর্টগান দিয়ে গুলিবর্ষণ করে। এতে রবিউল ইসলামসহ নারী-পুরুষ মিলিয়ে অন্তত ১১ জন গুলিবিদ্ধ হন। আহতদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলি লেগে তারা গুরুতর জখম হন এবং বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন—রবিউল ইসলাম (৩৬), তার পিতা মো. হাফেজ প্রামানিক (৭০), সোহেল রানা (৪৫) ও তার স্ত্রী তমা খাতুন (২৬), কামরুল ইসলাম (৩৭), মুন্নি (২৪), রুনা খাতুন (২৭), মিতা খাতুন (৩০), তৌহিদুল ইসলাম (৩০) ও তার স্ত্রী মেরিনা (২৫), এবং মেহেদী হাসান (৬৫)।
ঘটনার পরদিন ২১ এপ্রিল রবিউল ইসলামের ভাই রুহুল আমিন বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় হেলাল হোসেন ছাড়াও সদস্য মো. রাকিবুল (৩২) ও ইটভাটার শ্রমিক মো. স্বপন (৩৮)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, রবিউল ইসলাম ও সাবেক ইউপি সদস্য লিয়াকত সরদার অবৈধ বালুঘাট দখল ও উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। প্রায় এক মাস আগে এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে সেই বিরোধের জেরে রবিউল ইসলাম তার দলবল নিয়ে লিয়াকত সরদারের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালান বলে অভিযোগ রয়েছে। তারা সম্পর্কে মামা-ভাগ্নে।
এ বিষয়ে লিয়াকত সরদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এদিকে, মামলাকে ‘মিথ্যা’ দাবি করে তা প্রত্যাহারের দাবিতে শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেল ৫টার দিকে মাজদিয়ার গ্রামে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেন স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিযুক্তদের সমর্থকেরা।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করে নিরপরাধ ব্যক্তিদের মামলায় জড়ানো হয়েছে। তাদের দাবি, ঘটনার রাতে একদল মুখোশধারী ব্যক্তি রবিউল ইসলামকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার চেষ্টা করলে তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসে। এ সময় হামলাকারীরা এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করে।
অভিযুক্ত যুবদল নেতা হেলাল হোসেন দাবি করেন, ঘটনার সময় তিনি এলাকায় একটি চায়ের দোকানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে অবস্থান করছিলেন। হঠাৎ গুলির শব্দ শুনতে পান, তবে ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, গুলিবর্ষণের ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন। তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।